দেশের সব ইমাম-মুয়াজ্জিনদের অর্থ সহায়তা দেবে সরকার

জাতীয়

ঈদ ও রমজান উপলক্ষে দেশের সব মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে ঈদের আগে আরও ৭ হাজার কওমি মাদরাসাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারির কারণে সারা দেশের ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ পরিবারকে নগদ সহায়তা এবং স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে উপবৃত্তি ও টিউশন ফি বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

এবারের করোনা পরিস্থিতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের কষ্টের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন মসজিদে ইমাম মুয়াজ্জিনসহ ওখানে যারা থাকেন সাধারণত এই রমজান মাসে সবাই যায় তারাবি নামাজ পড়ায় সেখানে মসজিদে তাদের একটা ভালো ইনকাম হয়, যারা মসজিদ কমিটিতে আছে তারা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, বিত্তশালীরা দান করে যাচ্ছে সেটা আমি জানি, সেই খবরটা আমরা রাখি।

‘তারপরও আমি মনে করি আমাদের একটা দায়িত্ব আছে- আমি ইতোমধ্যে একটা তালিকা করতে বলে দিয়েছি- সকল মসজিদে ঈদ-রমজান উপলক্ষে আমি কিছু আর্থিক সহায়তা দেবো, সেই তালিকাটাও আমরা করে দিচ্ছি। সেটাও আমরা দিয়ে দেবো।’

দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৭ হাজার কওমি মাদরাসাকে ঈদের আগে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় পর্যায়ে আমরা আরও ৭ হাজার কওমি মাদরাসাকে আমরা ঈদের আগে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবো। সেই পদক্ষেপও আমি নিয়েছি।

প্রথম পর্যায়ে বিভিন্ন কওমি মাদরাসায় সহায়তার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আপনারা জানেন যে, আমাদের অনেক মাদরাসা যেখানে এতিমখানা আছে, একেবারে এতিম যাদের কোথাও যাওয়ার কেউ নেই। তারা খুব একটা কষ্টের মধ্যে দিয়ে ছিল আমরা তাদের কথা চিন্তা করে ইতোমধ্যে প্রায় ৬ হাজার ৮৬৫টি কওমি মাদরাসায় যেখানে এতিমখানা আছে সেখানে আমরা আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। প্রায় ১০ কোটি টাকা আমরা ব্যয় করেছি। কোন মাদরাসায় কতজন এতিম আছে আমরা হিসাব নিয়েছি, সে হিসাব অনুযায়ী প্রত্যেক মাদরাসায় আমরা টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি।

‘এভাবে বিভিন্ন জায়গায় যারা এতিম-অসহায় যারাই আছে কোনো শ্রেণিই যেন অবহেলিত না থাকে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেকটা জায়গায় মানুষের কষ্টটা দূর করা এটাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা সেটাই চাই। এত বেশি মানুষ হয়তো অনেক বেশি দিতে পারবো না। কিন্তু কিঞ্চিত পরিমাণ দিলেও যেন দিতে পারি, কেউ যেন বঞ্চিত না হয়।

অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারির কারণে সারা দেশের ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবার নগদ, বিকাশ, রকেট ও শিউরক্যাশের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের হিসাবে সরাসরি এ নগদ অর্থ পাঠানো হচ্ছে।

এ সহায়তার জন্য ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতি পরিবারে চারজন সদস্য ধরা হলে এই নগদ সহায়তায় উপকারভোগী হবে অন্তত দুই কোটি মানুষ।

ভাতা পাওয়া উপকারভোগীদের তালিকায় রয়েছেন রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, নির্মাণ শ্রমিক, কৃষিশ্রমিক, দোকানের কর্মচারী, ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যবসায় কর্মরত শ্রমিক, পোলট্রি খামারের শ্রমিক, বাস-ট্রাকের পরিবহন শ্রমিক ও হকারসহ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে দেওয়া লকডাউন বা শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নিম্নআয়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

একই সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিং/অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্বলিত বোতাম টিপে স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের ২০১৯ খ্রিস্টাব্দের ২ লাখ ০৯ হাজার ৬৭৪ জন শিক্ষার্থীর মাঝে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট হতে উপবৃত্তি বাবদ ১০২ কোটি ৭৪ লাখ ২ হাজার ৬০০ টাকা এবং টিউশন ফি বাবদ ৮ কোটি ৬৬ লাখ ৪১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *