দেশে করোনার বেশকিছু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে

সমগ্র বাংলা

বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি ক্রমশ আতঙ্কজনক হয়ে উঠছে। ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর সাথে সাথে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা এবং প্রতিদিন নতুন করে ১০০ জনের মধ্যে ১৪ জন আক্রান্ত হচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে যে সমস্ত তথ্যগুলো দিচ্ছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করলে বেশকিছু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে যা ভয়ঙ্কর আতঙ্কজনক। এগুলো স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সামনে আমাদের ভয়াবহ দিন আসছে এবং করোনার ভয়াবহ তাণ্ডব আমাদের সবাইকে গ্রাস করে ফেলতে পারে।

যে তথ্যগুলো নিয়ে চিকিৎসকরা এবং বিশেষজ্ঞরা আতঙ্কিত হচ্ছেন, তার মধ্যে রয়েছে-

১. ঘরে মৃত্যু শুরু

আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ২৪ ঘন্টায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ে যে অনলাইন ব্রিফিং করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে যে, করোনায় গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছে ১৪ জন। এর মধ্যে বাড়িতে থেকে মৃত্যু হয়েছে একজনের। সাধারণত করোনায় মৃদু সংক্রমণ হলে হাসপাতালে যেতে মানুষ উৎসাহী হচ্ছে না। কারণ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা ভালো নয়। মানুষ নানারকম ভোগান্তি এবং হয়রানির স্বীকার হচ্ছে। এজন্য একটা বিপুল সংখ্যক করোনা রোগী, যাদের মৃদু উপসর্গ আছে, শ্বাসকষ্ট বা অন্য জটিলতা নাই, তারা বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু আজ একজন ঘরে মৃত্যুবরণ করেছেন। এটি থেকে বোঝা গেল যে, মৃদু উপসর্গ থেকে পরিস্থিতি খারাপ হতে খুব বেশী সময় লাগে না। কারণ যে রোগিটি ছিলেন তিনি মৃদু উপসর্গ নিয়ে ছিলেন। ঘরে থাকার মতো অবস্থা ছিল বলেই তিনি হাসপাতালে যাননি। তার মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ মৃদু উপসর্গ থাকলেও বলা যায় না যে, তিনি ভালো হয়ে যাবেন। মৃদু উপসর্গ থেকেও খারাপ পরিস্থিতি হতে পারে এবং মৃত্যুও দ্রুতই ঘটতে পারে। এই ঘটনাটির মধ্যে তা প্রমাণিত হয়েছে। এমনটা ইউরোপ এবং আমেরিকাতেও দেখা গেছে। কাজেই এখন এটি অত্যন্ত আতঙ্কজনক। ঘরে চিকিৎসার উপর নির্ভরতা এরপরে কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২. সুস্থ কম হচ্ছে

গত ২৪ ঘন্টায় সরকার যে সুস্থতার নতুন সংজ্ঞা দিয়েছে- নমুনা পরীক্ষা ছাড়া তিনদিন জ্বর নেই, উপসর্গ নেই; তাকে সুস্থ বলে সত্যায়িত করা হচ্ছে। যদিও এই সুস্থতার সংজ্ঞার সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞার মিল নেই। তারপরও গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছে ২৫৬ জন। এই সময় আক্রান্ত ছিল ২০ হাজার ৯৯৫ জন। অর্থাৎ মাত্র ১ দশমিক ২১ হারে মানুষ সুস্থ হচ্ছে। প্রতিদিন যদি আক্রান্ত এভাবে বাড়ে এবং সুস্থতার হার যদি কমতে থাকে তাহলে হাসপাতালগুলোতে বিপুল রোগীর চাপ বাড়বে এবং এই চাপ নেয়ার মতো অবস্থা হাসপাতালগুলোতে নেই। ইতিমধ্যেই মোট রোগী দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৫৬৬ জন। এর মধ্যে হাসপাতালগুলো ইতিমধ্যেই রোগীতে পূর্ণ হয়ে গেছে। এভাবে রোগী বাড়তে থাকলে আমাদের করোনা চিকিৎসায় হাসপাতালগুলো, সেই হাসপাতাল ব্যবস্থা কতটুকু সাপোর্ট দিতে পারবে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা রয়েছে।

৩. আক্রান্ত বাড়ছে

করোনায় প্রতিদিন আক্রান্ত বাড়ছে এবং আমাদের মোট নমুনা পরীক্ষায় ১০০ জনের মধ্যে গড়ে ১২ জন পজিটিভ আসছে। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে এটা ১৪ শতাংশ বা ১৪ শতাংশের বেশি করে আসছে। সবথেকে বড় কথা হচ্ছে, ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা সমানতালে বাড়ছে। এর ফলে সারাদেশে সমমানের চিকিৎসা দেয়া এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়ার গুরুত্ব বেড়েছে। সেক্ষেত্রে আমাদের যথেষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

৪. দ্রুত পরীক্ষা হচ্ছে না

বাংলাদেশে করোনায় শুরু থেকেই ধীর গতিতে পরীক্ষা করা হচ্ছে। যখন দিনে ১ হাজার পরীক্ষার দরকার ছিল তখন আমরা পরীক্ষা করেছি ২০০ ৩০০ করে। যখন দিনে ৫ হাজার দরকার ছিল, তখন আমরা টেনেটুনে এক হাজার পরীক্ষা করেছি। আর এখন কমপক্ষে ১০ হাজার পরীক্ষা দরকার, সেটাও আমরা করতে পারছি না। টেস্টের রেজাল্ট জানাতেও ৪/৫ দিন সময় ক্ষেপন করা হচ্ছে। ফলে সংক্রমিত রোগীরা আরও অনেকের মাঝে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি খুব দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

৫. সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে হটস্পটগুলোতে

ঢাকা শহরকে বলা হচ্ছে করোনার সবথেকে সংক্রমিত এলাকা এবং এখানে ১০টি হটস্পটকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে দেখা যাচ্ছে কয়েকটি হটস্পটগুলোতে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এবং এখনই যদি সামাজিক দূরত্ব বা লক ডাউন কার্যকর করা না যায় এই সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে। উদাহরণ হিসেবে বলাযায় যে, মুগদায় ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ছিল মাত্র ১ জন রোগী। সেখান থেকে রোগীর সংখ্যা বেড়ে গতকাল পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ১৮৯ জন-এ। যেখানে লালবাগে কয়েক সপ্তাহ আগেও রোগীর সংখ্যা ছিল ১ জন, এখন তা ১১৭ জন হয়েছে। এভাবে বেশি সংক্রমিত এলাকাগুলোতে বিধিনিষেধ আরোপ এবং লক ডাউন না করার ফলে হটস্পটগুলোতে দ্রুত সংক্রমিত হচ্ছে এবং সেখান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে। এটা একটি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি ঢাকা শহরে তৈরি করতে পারে বলে জানা গেছে।

একজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে, পরিস্থিতি এরকম এগোলে ঢাকা শহরে হাঁটাচলা করাই দুষ্কর হয়ে যাবে। আর ভয়ঙ্কর আতঙ্কের তথ্যগুলোই বলে দিচ্ছে যে আমাদের করোনা পরিস্থিতি অবনতিশীল এবং সামনে আরো খারাপ সময় আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *